Wednesday June 26, 2019
অতিথি কলাম
23 September 2017, Saturday
অন্তর্ধান
খুকু খালেদ


কি দারুণ সব খুনসুটি করতে করতে তোমার আমার পরিচয়। পরিচয় থেকে ভাললাগা, ভাললাগা থেকে ভালবাসা।শামলীর চার তলার তিন তলায় পাশাপাশি বাসায় আমার ভাই আর তোমার বোন ভাড়া থাকে।সিড়ি দিয়ে উঠে বা পাসে আমরা আর ডান পাশে তোমাদের বাসা।আসা যাওয়ার পথে মাঝে মাঝে দেখা হত।চোখাচোখি হতো।দুই পরিবারই নতুন ছিলাম।আছতে আছতে দুই পরিবারের আলাপ হলো।আমাদেরও আলাপ বাড়ল।তুমি বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেলে।আর আমি ভাইর কাছে থেকে এস এস সি দিব ।পরীক্ষার পড়ার চেয়ে আমার নেশা ছিল গল্পের বই পড়ায় । তোমাদের বাসায় অনেক গল্পের বই ছিল।সারাক্ষণ সুযোগ খুঁজতাম বই আনার।সত্যি কথা কি জান।তুমি যখন বাসায় থাকেতা ঠিক ঐ সময়ে যেতাম বই আনতে।কেন জান ?তুমি জানতে,আমিতো জানতামই।দুজনেই দুজনকে একটু দেখতাম,চোখাচোখি হতো। এর বেশি কিছু না।আর এতেই সারা শরীর মনে ভাললাগার আবেশে ছেয়ে যেত।কিন্তু এক অচেনা অনুভূতি ছিল আমার !

আমাদের এই ভাললাগা ঐদিন ভালবাসা হয়ে ধরা দিল।2 শে ফেব্রুয়ারী ছিল পরের দিন।তুমি অনেক রকম ফুল এনে রেখেছিলে আগের রাতে।তোমার জানালা খুলে জানালার সাথেই টেবিলে রেখেছিলে ফুল গুলো।আমার চোখ পড়েছিল ফুলগুলো উপর।দুষ্টমি খেলে গেল মনে।জেগে রইলাম মাঝে রাত অবধি ।সবাই ঘুম,আছতে দরজা খুলে বের হলাম।করিডোর এর সাথেই ছিল ওর রূম,জানানো খোলাই ছিল।সব ফুল গুলো চুরি করে আনলাম।ফুলতো আনলাম।এখন কি করি?ঘুমতো আসবে না কোন মতেই।মায়া লাগতে লাগলো। বেচারা ভোরে প্রভাত ফেরি যাবে।আর আমি কিনাফুল চুরি করলাম।কি করা যায় ভাবতে বসলাম।দিয়ে আসি ভেবে বের হতে যেয়ে অন্য ভাবনা এলো।সুন্দর একটা মালা বানালাম।জেগে থাকলাম মালা দেওয়ার জন্য।

খুব ভোরে উঠে জানালায় ফুল না দেখে চেহারা যা হলো।আমি তো জানালার হাল্কা ফাকে সব দেখছি। ও রুমে ফুল না পেয়ে বোন কে ডাকবে।আমি জানলা ফাক করে শব্দ করলাম।বাইরে আসার ইশারা করলাম। বাইরে এসে দেখে আমি দুই হাতে মালা দুলাচছি।অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে তুমি!

আমি মাথা নিচু করে চুপ হঠাৎ বলে উঠে কখনো শহীদ মিনারে, ফুল দিয়েছ?না বললাম।চল আমার সাথে কতো ভালো লাগে দেখ।কাউকে না বলে যাব!বিস্মিত আমি।ও বললো এটা মহান কাজ।সবাই ঘুমাচ্ছে।সারা বছর ঘুমায় একটা দিন ভোরে উঠলে কি হয় ?তুমি চল সবাই উঠার আগেই ফিরব।সত্যি আমি ওর সাথে গেলাম।সবার উঠার আগেই ফিরে এলাম।অন্য রকম এক আবেশে দেহ মন আচ্ছন্ন হয়ে গেল।শুরু হলো দুটিমনেরভালবাসা।

অনেক সপনের বীজ বপন করলাম।কতো আশা ভরসা। দুই পরিবারের বোন আর ভাবী ঠিক ধরে ফেললো।কিন্তু বাধা এলো না।কিন্তু ভাগ্য চায়নি আমাদের এক হওয়া।ভাই বদলি হলো রাজশাহী।আমার কিছু করার ছিল না।ওর মন খারাপ তারপরও আমাকে অনেক শান্তনা দিল, অনেক সপনের বাধন বেধে দিল।রাজশাহী যাওয়ার পর দুই বার যেয়ে দেখা করেছে।কিন্তু বিপত্তি হলো আমার এস এস সি শেষ হওয়ার পর।মার আদেশ দেশে যাবার।

আমিও দেশে গেলাম।আমার ভালবাসাও হারিয়ে গেল। আমার মার অবদান টাই বেশী।এমনিতেই মা তার সুন্দরী মেয়েকে কাছে রাখেনি।আমি বাড়িতে।আমার বড় বোন কে সব বলেছি।ও চিঠি দেয় , আমি দেই।সব মার চোখ এড়িয়ে চলছিল বেশ।আমি মাঝে মাঝে আসতে বলতাম।

একদিন সারপ্রাইজ দিব।তখন তো আর ফোন এতো সহজ ছিল না।মাঝে মাঝে টেলিফোন অফিসে যেয়ে কথা হতো।হঠাৎ ওর চিঠি আসা বন্ধ।আমি লিখেই যাচছি।মা কেমন যেন নজরদারি বাড়ায়ে দিল।পিয়নআসলে মার হাতে চিঠি যায়।মাঝে বোন কে নিয়ে ফোন করেছি কিন্তু ওকে পাইনি।ওই ফোন ধরেনি।দিন দিন আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে লাগলাম।ঘর থেকে বের হইনা।যন্ত্রণায় শেষ হয়ে যাচছি।আমার সব ভালোলাগার অনুভূতি শেষ! কি ভাবে মানবো।তবে কি ও আমার সাথে সব অভিনয় করেছে।তাই বা কিভাবে হয়। একদিন চিলে কোঠার আলমারি মা খুলছিল।আমি ঐ সময় ছাদে যাচছিলাম ।মা আলমারি খোলার সময় বেশ কিছু কাগজ পাতি নিচে পড়ে।আমি মাকে কাগজ তুলে দিতে গিয়ে ওর হাতের লেখার উপর চোখ যায়।মা চিঠি টান দিলেও নিতে পারেনি ।দুইটা চিঠি,একটা আমার চিঠির উওর,কি খুশী হয়েছিলাম চিঠি পেয়ে।ভাবলাম সব ঠিক হয়ে গেছে।কিন্তু না দ্বিতীয় চিঠি আমার সব শেষ করে দেয়। ও আমাকে সারপ্রাইজ দিতে ঠিকই এসেছিল।মা ভাল ভাবে নেয়নি।অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। তারপর থেকে চিলে কোঠা আমার ঘর। মার সাথে কথা বনধ ।শুধু ঘুমের ঔষধ খেতাম।নিজেকে চেষ্টা করেছি শেষ করার।মা আর ও দুজনের উপর অভিমান জমেছিল।একটা বার চেষ্টা করত আমার সাথে যোগাযোগের।এক কাপড়ে বের হয়ে যেতাম,একটা বার ভাবেনি আমার কথা!।

২৩.০৮.২০১৭/ফাস্টনিউজ/এআর/২০.১৫
অতিথি কলাম :: আরও খবর