Wednesday June 26, 2019
নারী
29 September 2017, Friday
সৌদি নারীদের স্বাধীনতা এখনো সোনার হরিণ
ফাস্টনিউজ ডেস্ক: গাড়ি চালানোর অনুমতি মিললেও অতি রক্ষণশীল সৌদি আরবে নারীরা নিজের ইচ্ছেয় বিয়ে করতে বা স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারেন না। কোনো পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমতি ছাড়া পাসপোর্ট দেওয়া হয় না সৌদি নারীদের। কোথাও ঘুরতে যাওয়া তো দূরের কথা ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করতে যেতে হলেও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগে সৌদি নারীদের। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ছাড়া বাইরে অন্য কোনোও পুরুষের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ এবং তা করলে জেল পর্যন্ত যেতে হতে পারে সৌদি নারীদের।

যে সব রেস্তোরাঁয় পরিবারের জন্যে আলাদা বসার কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে সৌদি নারীরা খেতে যেতে পারেন না। বোরখা ও হিজাব ছাড়া বাইরে সৌদি নারীদের বের হওয়া নিষেধ। দেশটির রাজধানী রিয়াদে ইদানিং দেখা যায় অনেক নারীকে মুখ খুলেই বের হতে। অমুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো সদস্যকে বিয়ে করা সৌদি নারীদের জন্যে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সুন্নি মহিলারা শিয়া মুসলিমদের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন না। অন্তত দুজন পুরুষের চারিত্রিক সনদপত্র ছাড়া কয়েকটি বিশেষ ব্যবসার অনুমতি মেলেনা সৌদি নারীদের ক্ষেত্রে।

একই সঙ্গে স্বামী ডিভোর্স দিলে কন্যা সন্তানের বয় ৯ বছর পার হলে এবং পুত্রের বয়স ৭ বছর হলে তাদের আর নিজের কাছে রাখতে পারবেন না সৌদি মায়েরা। সৌদি নারীদের আইনী অবস্থান খুবই দুর্বল। অনেকটা নাবালকের সমান। তারা নিজের জীবন নিয়ে একক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বললেই চলে। এমনকি জেল থেকে মুক্তি পেতেও সৌদি নারীদের অভিভাবকের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে, বিদেশে সফরেও এমন সম্মতি অবধারিত। কোনো বাড়ি ভাড়া নিতে, গাড়ি কিনতে, ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে কিংবা কাজে যোগ দিতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সৌদি মেয়েরা তা করতে পারে না। দিন কয়েক আগে সৌদি আরবের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে রিয়াদের স্টেডিয়ামে এক সৌদি নারী যেয়ে বিপাকে পড়েন। কারণ সেখানে নারীদের জন্যে পারিবারিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তিনি একটি সাধারণ আসনে আরেক পুরুষের পাশের আসনে বসেছিলেন। ১৯৩২ সাল থেকে সৌদি আরবে এধরনের নানা ধরনের আইনের গণ্ডিতে সৌদি নারীদের জীবন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়ে গেছে।

তবে সৌদি নারীদের জন্যে অনেক সুযোগ বিস্ময়কর বলে মনে হয় যখন তা অন্যান্য দেশের নারীরা অনায়াসে ভোগ করছে। যেমন সৌদি নারীরা এখন স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে বা প্রার্থী হতে পারেন। ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মত একজন সৌদি নারীকে দেশটির দূতাবাসের মুখপাত্রের দায়িত্ব নিতে দেখা গেছে। সৌদি শাসন ব্যবস্থায় মজলিসে শূরায় নারীরা অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন এবং দেশের বাইরে সৌদি নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ সৌদি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েরা শৈশব পার হলে তাদের চাচাত ভাইয়ের সামনে আসতে বা দেখা দিতে পারেন না। বাবা বা ভাই ছাড়া সৌদি নারীরা শপিংএ বা কোথাও যেতে এখনো বিধি নিষেধের মধ্যে পড়েন।

ডিভোর্সি কোনো সৌদি নারী তার ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিদেশ যেতে পারেন না। তার বাবা বা ছেলেমেয়ের আইনগত অভিভাবকের অনুমতি মিললেই তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন।

সর্বশেষ সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ইসলামি আইন বা সৌদি ট্রাফিক আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এতদিন সৌদি নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হত না এবং গাড়ি চালাতে দেখলে পুলিশ তাদের আটক করত।

সূত্র:- টাইমস অব ইসরায়েল/টাইমস অব ইন্ডিয়া

২৯.০৮.২০১৭/ফাস্টনিউজ/এআর/১৯.১০
নারী :: আরও খবর