Wednesday June 26, 2019
অতিথি কলাম
04 November 2017, Saturday
আড়িয়াল খাঁ !
খুকু খালেদ



সেই বাল্যকাল থেকেই আমাকে তার বুকে ডুবিয়ে রেখেছে।এই ডুব সেই ডুব না।আমার মনটা নদের ভিতরে সব সময় ডুবে থাকতো।আববার কাছে আড়িয়াল খাঁর গল্প শুনতে শুনতে এক সময় মনে হতে লাগলো এই নদ শুধু আমার নিজের।আর কারো নয়।কি বোকা আমি ! নদী কি কারো হয়? নদী যেই দেশের ভিতর দিয়ে যায় সেই দেশের হয় ।

আববা ছোট বেলা আড়িয়াল খাঁর তীর দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময়ে আম খাওয়ার জন্য এই নদী থেকে ঝিনুক তুলে তাতে মুক্তা পেয়েছিল অনেক গুলো।দাদী সবচেয়ে বড়ো মুক্তাটা তুলে রেখেছিল ছেলে বড় হয়ে বিয়ে করলে তখন ঐ মুক্তা দিয়ে নাকফুল গড়িয়ে দিবে।প্রতিদিন ঐ নদীতে ঝাঁপিয়ে গোসল করা ছিল নিত্য দিনের কাজ।খুবই দরকারি কাজ।

বনধুরা মিলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে নদীতে ঝাঁপাঝাপি করা।এই সব ছিল জীবনের সবচেয়ে দরকারি কাজ।দল বেঁধে মাছ ধরা।আরো কতো গলপ যে শুনতাম আববার কাছে।আমার নেশা হয়ে গিয়েছিল ঐ নদীর গলপ শুনার।আববার কাছে শুধু ঐ নদীর আর নদীর তীরের আববার বাড়ির গলপ শুনতে চাইতাম।আর চাইলেই আববা কেনো সব সময় একই গলপ শুনাবে? আরো কাজ তো আছে নাকি ? কিন্তু আমি জানতাম কখন আববার থেকে গলপ শুনতে হবে।অফিস থেকে এসে আববা কিছু সময় রেস্ট নিত।খালি গায়ে কিছু সময় শুয়ে থাকতো।সুনদর মানুষ আমার আববার পিঠটা ঘামাচিতে লাল হয়ে থাকতো।ঐ সুযোগে একটা কয়েন নিয়ে পিঠের ঘামাচি খুটে দিতাম।আববাও খুব আরাম পেত।তখন সব আবদার মনজুর ছিল।যা মনে আসত বলত।আববার কাছে আড়িয়াল খাঁর গলপ শুনতে শুনতেই আমার আড়িয়াল খাঁর প্রতি প্রেম।

কি সুন্দর নাম আড়িয়াল খাঁর।অবশ্য পৃথিবীর সব নদীর নাম গুলোই সুনদর। আববাকে কত অনুরোধ করতাম আড়িয়াল খাঁ দেখাতে নিয়ে যেতে।গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আবদার করতাম।কিন্তু আববা সময় করে উঠতে পারতো না।অফিসের কাজ।আবার অন্য কারো সাথেও দিবে না।মন প্রাণ পড়ে থাকতো ঐ নদীর ভিতর। কিশোর বয়সে যখন শুনীল গাঙুলীর বই পড়ার নেশায় ধরল তখন জানতে পারি আমার প্রিয় লেখকের দেশ ও আড়িয়াল খাঁর তীরেই।আড়িয়াল খাঁ শুণীলের, আড়িয়াল খা আমার। আড়িয়াল খাঁ বাংলার ।আববা নিয়ে যায়নি দেখে অভিমান করতাম।মনে মনে বলতাম,বড় হলে কে ঠেকাবে আমায়।একাই যাব আমার আড়িয়াল খাঁর কাছে।

ধীরে ধীরে সপনে আসতে লাগল আড়িয়াল খাঁ।নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।মাছ দেখছি।ধরতে গেলেই নদীতে ডুবে যাচছি।প্রায় দিনই আড়িয়াল খাঁকে সপনে পাই।পাগলামির পরযায়ে চলে যাচছে আমার আকুতি।ইদানিং আবার একই সপন বার বার দেখছি। পূর্ণিমার রাতে আড়িয়াল খাঁ নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি কার সাথে যেন।তার চেহারা পরিষ্কার না, তবে সে নৌকা চালাচ্ছে আর আমি বসে আছি নৌকার মাঝে।আমি একটা লাল শাড়ি পড়ে আছি,পূর্ণিমার আলোতে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু যে নৌকা চালায় তাকে কেন দেখতে পাই না ? কত গুলো সপন থাকে, যেগুলো ঘুম ভেঙে গেলেও রেশ থেকে যায়। মনে হয় আবার ঘুমিয়ে পড়ে পরের টুকু দেখে নেই। কিন্তু সপন তো সপনই। তা কি আর জোড়া লাগে।

এস এস পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র আববাকে এমন করে ধরলাম যে আববা যেতে বাধ্য হলো। কথা পাককা হলো দুই দিনের বেশি থাকা চলবে না।সব শর্ত মনজুর।যেতে পারছি এটাই তো আসল।কয় দিন থাকবো ঐ টা দেখা যাবে।আববা চার দিন ছুটি নিল।যদিও আমমা যাওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলো কিন্তু যাওয়া হচছেই আমমার জন্য।আমার পাগলামি দেখে আমমাই আববাকে বলে দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরিয়ে আনতে।

আমমা দাদা বাড়ি যাওয়ার বিরোধি হওয়ার কারণ আছে।আমমাকে যখন বিয়ে করে নিয়ে যায়, নতুন বৌকে কতো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।তার ই একটা পরীক্ষ হল পুকুরে সাতার করা।আমমা এর আগে কখনো সাতার তো দূরে পুকুরেই নামেনি।শশুড় বাড়িতে দেখে মহিলারা সব বাড়ির পিছন দিকের পুকুরে গোসল করে।আর পুরুষরা সব বাড়ির বাইরের পুকুরে গোসল করে।

আমমাকে পানি তুলে দেয়,বাথরুমে গোসল করে।বাড়ির মহিলারা একদিন প্লান করে আমমাকে নিয়ে জোর করে পুকুরে ছেড়ে দেয়।আমমাকে বলে এই বাড়ির বউকে সাতার না জানলে চলবে না।তারা তো সাথেই আছে।কিন্তু ঐ দিন আমমার ডুবে যাওয়ার অবস্হা হয়।পানি খেয়ে টেয়ে একাকার।

অবশেষে স্বপনের আড়িয়াল খাঁকে দেখতে ড়ওনা হলাম।সাড়া দিন লেগেছিল পৌছাতে।বুঝতে পেরেছিলাম কেন আমাদের বাড়ি আনা হতো না।অনেক সময় লেগেছিল।তারপরও যখন লন্চে আড়িয়াল খাঁ পারি দিচছিলাম কীযে ভালো লেগেছে।কেমন অনুভূতি।একেই কি বলে নাড়ির টান ?এই নদ আমার,এই গ্রাম আমার।রাত হয়ে গেছে পৌছাতে।আববা যে আগেই খবর দিয়ে রেখেছিল সেটাও বুঝতে পারলাম বাড়িতে যারা থাকে তাদের আপপায়ন দেখে।কতো রকম যে রাননা।আববাকে দেখলাম মন ভরে আরামছে খাচছে আর গলপ করছে।আমার আর কি খাওয়া?আমমা বলত চড়ূই পাখির খাওয়া।আববা খায় আর আমাকে বলে খাও মা,মন ভরে খাও,এই মজার খাবার ঢাকায় কই পাবা?খাবার আবার মন ভরে খায় কি ভাবে?পেট ভরে খায়।আসলে আববা তার ফেলে আশা বাল্যকালকে যেন ফিরে পেয়েছিল।নস্টালজিক হয়ে পড়েছিল।আর আববাও তো গ্রামে থাকার সুযোগ কম পেয়েছে।রাতে ঘুমালাম আববার ফুপাতো বনের ঘরে।আপন বলতে ঐ ফুপাতো বোন।আববার ফুপু নেই কিন্তু তার ভাগের ভিটায় সুনদর ঘর বানিয়ে ফুপাতো বোন মেয়ে নিয়ে থাকে। স্বামী নেই।ওখানে বিশাল বাড়িতে দুই ছেলে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকে ।ফুপাতো বোনের ইচছা ভালো ছেলে পেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এখানেই রেখে দিবে।আববার সাথে আলাপ করতে শুনলাম।

আমার মাথায় একটাই চিন্তা কি ভাবে কয়টা দিন বেশী থাকা যায়।আববা কাল একটা নৌকা ঠিক করে নদীতে ঘুরাবে।হয়ে গেল আড়িয়াল খাঁ দরশন।তারপর বলবে চলো এবার বাড়ি যাই।ঢাকা আমাদের বাড়ি।এই গ্রাম আমাদের কিছু না।এক সময় আববার বাড়ি ছিল।এখনো এখানে জায়গা আছে কিন্তু ঘর নেই।আববা এখানে বাড়ি না করে করেছে ঢাকা।পৃথিবীর কি নিয়ম।নিজে সৃষ্টি হয়েছে,প্রান সৃষ্টি করেছে।পুরো পৃথিবীতে সব কিছু তার দরকার মতোন নিজেরা সাজিয়ে নেয়।এভাবেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিজেকে স্থাপন করে।পৃথিবীর কেনো সীমারেখা থাকবে।প্রানের জন্য পৃথিবী, তাই সবার কেনো সব খানে অবাধ যাতায়াত থাকবে না?

আববা পরদিন নৌকায় আড়িয়াল খাঁ ঘুরালো।তার ছোটবেলার কতো নতুন গলপ শুনাল।এখন আমার মাথায় একটাই চিন্তা কিভাবে থাকা যায় ।আববার ফুপাতো বোনের মেয়ে তো আমারবোন।বেলী আপা।কি সুন্দর ফুলের নামে নাম।আমার কি যত্ন নিচ্ছে।তার সাথে রাতে ঘুমালাম।তখন বেলী আপাকে বললাম,আপা আমি অনেক দিন থাকবো।তুমি বাবসহা করতে পারবা? ফুপু বললে আববা যদি রাজি হয়?

বেলী আপা খুশীতে আমাকে জড়িয়ে ধরে।বলে আমার উপর ছেড়ে দাও।তুমি যত দিন মন চায় থাকবা।জানো আমরা এখানে থাকি।একই মানুষ দেখি।শহর থেকে কেউ এলে খুব ভালো লাগে।তোমাদের সাজ পোষাক অন্য রকম।খুব ভালো লাগে।আমি বললাম,আর আমার যে তোমার সাজ ভালো লাগে।তোমার নামটা কি সুন্দর বেলী।যেমন সুন্দর ফুল আর কি সুন্দর গন্ধ।আপা বলে,আমি যখন হই তখন নাকি বাড়িতে একটা গাছ ভরতি বেলী ফুল হয়েছিল।তাই আমি বেলী।ওয়াও কি চমৎকার।কতো সুন্দর তোমার নাম করন!আপা বলে তোমার নাম আমার ভালো লাগে।বিথী।কি সুনদর নাম।ভালো না ছাই।আসলেআপা আমাকে সারাখখন খুশী রাখার জন অস্থির থাকতো।

অবশেষে ফুপু আববাকে এই বলে রাজী করাল যে,বেলীর বিয়ের কথা চলছে।ওর খুব সখ ঢাকা শহর দেখার।আপনি বিথীকে রেখে যান।মিজানকে বলব আমাদের নিয়ে যেতে।প্লীজ ভাইজান না কইরেন না।বিথী থাকলে আমাদের যাওয়া হবে।নাইলে আর হবে না।আববা বলে উঠে,আমার সাথে চলেন।ফুপু বলে ,এখন কেমনে যাই,বেলীকে দেখতে আসবে যে কোন দিন।আববা দোমনা করতে লাগলো।ফুপু বলে,বুঝছি ভাইজান।ভাবীতো? ভাবীরে চিন্তা করতে না করবেন। ওকে ভুলেও পানির কাছে যেতে দিব না।

অবশেষে আমি থেকেই গেলাম।আমম ইচছা পনেরো দিন থাকবই কিন্তু আমমা তার ছোট লাডলীকে এতোদিন থাকতেই দিবেনা।ভয়ে রইলাম কবে যেন আমমা সহ আববা হাজির।আমার পূর্ণিমার রাতে নৌকায় আড়িয়াল খাঁয় ঘুরে বেড়ানোর কি হবে?আসার সময় বড়পার লালশাড়ি আনতে ভুলিনি।বড়পা বলেছিল,শাড়ি দিয়ে তুই কি করবি? আমি বলেছিলাম গায়ের মেয়ে সাজব।আর লাল শাড়ি ছাড়া মানাবে না।বেলী আপার সাথে বসে হিসাব করলাম কবে ভরা পূর্ণিমা।ঐ দিনই নৌকায় ঘুরব।

ফুপুকে যা বুঝানোর বেলী আপাই বুঝালো।অপেক্ষার পালা শেষ।নৌকায় আমরা দুজন।লাল শাড়ি পরা আমি।বেলীআপাও শাড়ি পরছে।আস্তে আস্তে পূর্ণিমার আলোর ছটা বাড়তে লাগলো।কি মায়াবী আলো।ঠিক সপনের মতন।আর এসেছি তো সপ্ন পূরন করতেই।বেলী আপা তারা দিল ফেরার জন্য।কিন্তু আমার আরো থাকার ইচছা।খুব ইচ্ছে ছিল মাঝ নদীতে যাওয়ার।কিন্তু বেলী আপার না।আর এতোখখন এখানে থাকা ঠিক না।আমরা তীরে এসে পড়েছি,আপাকে বললাম ,এখানে নৌকায় একটু বসে থাকি আপা? আপা না করে না।আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ আমি নৌকায় বসা। চুপকরে বসে শুধু পৃথিবীর রূপ যে কতো মায়াবী হতে পারে তাই ভাবছিলাম।ভাগ্যিস স্বপন দেখেছিলাম।প্রকৃতি অকৃপন ভাবে তার রূপ ঢেলে দিয়েছে।সত্যি ঐদিন জীবন টাকে সারথক মনে হয়েছে।নিছক স্বপন পূরন আর বাবার বাললকাল এর গলপ আমাকে টেনে এনেছিল আড়িয়াল খাঁর কাছে।কিন্তু কি বিস্ময় যে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল,তাকেই বলে ভবিতবব।

হটাত দূর থেকে অনেক মানুষের চিৎকার এর আওয়াজ এলো।মন হলো কাউকে ধরার জন্যে।কোথা থেকে এক যুবক লাফ দিয়ে আমাদের নৌকায় উঠেই মাঝির হাত থেকে বৈঠা টান মেরেই চালানো শুরু করে মাঝির তোয়াককা না করেই।বেলী আপা দেখলাম কাঁপা গলায় শুধু বলল জামিল ভাই আমাদের নামায় দিয়া যান।যুবকটি বলল,চুপ করে বসে থাক।আগে বাঁচতে দে।আমি বাচঁলে তোদের কোন বিপদ হবে না।বেলী আপার মুখ ভয়ে পাংশুর হয়েছিল।আর আমিতো কিছু বুঝতেই পারছিলাম না এসব কি হচ্ছে?খুব জোরে নৌকা চালাচছে আর মাঝিকেও বলছে জোরে টানতে।কতক্ষণ হবে বলতে পারবনা।তবে ঘন্টার বেশী হবে।নৌকাও ধীরে চলছে।আপা তো কেঁদেই দিল।বলছে,প্লীজ আমাদের কোথাও নামায় দিন! আমার মামাতো বোন এসেছে ঢাকা থেকে।ওর কিছু হলে?ছেলেটি এবার আমাকে খেয়াল করলো।আপাকে বললো,তা এই রাতের বেলা একা দুই কননা বের হলি কোন সাহসে?আপা আমার বোনটার খুব সখ করেছিল নৌকায় করে পূর্ণিমার চাঁদ দেখবে।বাহ্ দারূন সখতো আপনার বলে আমাকে দেখতে লাগলো।আমি বলেছিলাম কেন মেয়েরা একা ঘুরতে পারবেনা?ছেলেটি বলেছিল,কেন পারবে না?অবশ্যই পারবে।কিন্তু আপনি সত্যি বলুনতো সেই সমাজ কী তৈরী হয়েছে?

কোন জবাব দিতে পারিনি।ছেলেটির কথার ভিতর একটা সমমোহন ছিল।আমি শুনছিলাম ওর কথাগুলো।বলেই চললো,এর চেয়ে আরো মোহনীয় রূপ আছে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার।দেখবেন নাকি ?আপা না আর আম হাঁ এক সাথে বলে উঠি।আমি বলি,আপা প্লীজ না করোনা! জীবনে সুযোগ বার বার আসেনা।জামিল বলে বেলী তোর বোনটি যখন শখ করেছে তখন চল্ যাই।আমি থাতে তোদের কোন ভয় নেই।বেলী বলে উঠে,একটু আগেই আপনি বাচঁতে কি করলেন আর এখন বলছেন এই কথা?বড় অদ্ভুত আপনি !জামিল বলে, মরন ভয় পাই নারে! অনেক কাজ বাকীরে! তারপর আর মরার ভয় নেই রে।কি করে ছেলেটা?মনে ভাবছিলাম ।তবে সাহস আছে বলতে হয়।আর সাহসী যে কেউ আমায় খুব টানতো।আপাকে একটু জোর দিয়ে বললাম আপা যাব।

নদীর এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেলো।শুধু কাঁশ ফুল আর কাঁশ ফুল।কি অপূরব।শরতের কাঁশ ফুল নদীর এদিকটা ছেয়ে রেখেছে।নৌকা পুরো কাঁশ বোনের ভিতর ঢুকিয়ে দিল।হাটু পানি হবে।কি অপূর্ব হতে পারে প্রকৃতি আজ এখানে না এলে বুঝতাম না।এখান থেকে যেতে মন চাচছে না।বেলী আপার তারা দেওয়ায় ফিরতি পথ ধরলাম।সত্যি খুব নিরাপদে বাড়িতে পৌছেদিল।আশার পথে আর একটা লোভ দিল।বলল,খুব ভোরে উঠটে পারলে প্রকৃতির আর একটা রূপ দেখে যেতেন। আপা না বলতেই জামিল বলছিল,আরে আগেই না বলিস কেন?নদীতে যেতে হবে না।শুধু আলো উঠার আগে উঠে তোদের বাড়ির বাইরে থাকবি আমি দেখাব।আমি বলেই দিলাম থাকবো।

আপার কাছে রাতে যা জানলাম তা হলো ,খুব মেধাবী ছাত্র।এস এস সির পর বাবা খুব সখ করে ঢাকা পাঠায় মানুষের মতন মানুষ বানাতে।কিন্তু পড়ে যায় রাজনীতির চক্রে।বেশীর ভাগ সময়ই এখানে পরে থাকে।যুবক বয়সীদের দলে টানে।নাম দিয়েছে সর্বহারা পার্টি।সারা দেশে ছড়িয়েছে।এই দল নাকি আতমগোপনে থাকে।পুলিশ ধরতে পারলে মেরে ফেলবে।ফানড তৈরী করার জন্যে মাঝে মাঝে মাঠ পর্যায়ে পাঠায়।জমিদার-জোতদারের থেকে চাঁদা চায়।দিলে ভালো , না দিলে ছিনিয়ে আনে।অভদ্র ভাষায় যাকে বলে ডাকাতি। আলো ফোটার আগে বাইরে এসে দেখি তিনি দাড়িয়ে।বড় অদ্ভুত মানুষতো!ঘুম বলে কিছু নেই।আমি বলেই ফেলেছিলাম আপনি ঘুমান না? জবাব টা ছিল যখন দরকার তখন ঘুমাই।

আমাদের বাড়ির সামনের পুকুরের উওর পাশে নিয়ে গেল।ওদিকটা হালকা জংগল।তার মাঝে বড় একটা শিউলী ফুল গাছ। গাছের নীচে ফুলের যেন সাদা চাদর বিছিয়ে আছে।বেলী আপা বলে এদিকে আশাই হয় না বলতেই পারিনা ভোরে এতো ফুল বিছিয়ে থাকে।জামিল বললো আর একটু পরে এলে দেখবি সব ফুল শেষ।পুজোর জনন নিয়ে গিয়েছে।আমি বাকরুদ্ধ ছিলাম।শিউলি ফুল দেখেছি কিনতু এই রূপ এর আগে দেখিনি।সত্যি প্রকৃতি কতো সুনদর করে সাজিয়েছে।

আমি কয়টা ফুল তুলতে গাছের নীচে গিয়েছি আর অমনি জামিল গাছ ধরে দিল ঝাকি আমার সারা শরীরে ফুল বৃষ্টি ঝরতে লাগলো।অভিভূত আমি ,বাকরুদ্ধ । যাকে কোনদিন দেখিনি।আর কোনদিন দেখা হবে কিনা জানিনা।কিন্তু তখন তাকে কেন এতো আপন মনে হচ্ছিল।

বেলী আপা ঘরে যেতে ডাকে।আমি উনাকেও আসতে বলি তখন আপাও আসতে বলে।সে কিনতু আসেনি। বলেছিল নারে তোদের আবার কোন বিপদে ফেলি।শিউলী ফুল দেখতে চাইবে এই সময়ে এলে আমাকে পাবে।সারাদিন শুধু তার কথা ভেবেই দিন গেল।পরদিন গেলাম,ঠিক তাকে পেলাম । ঐ দিনের মতন শিউলী ফুল বৃষ্ট দিয়ে আমায় বরন করল।পরপর আরো দুই দিন দেখা হলো কথা হলো।আমার মনে হলো আমি তার প্রেমে পরে গিয়েছি।তার জনন মন কেমন করে,বার তাকে দেখতে ইচ্ছা করে , সামনে এলে বুকের ভেতর ধুকধুক করে ।এটাকে ভালবাসা বললে আমার ভালবাসা হয়ে গেছে জামিলের সাথে।

এরপর একদিন গেলে জামি ল আমার হাতে কতোগুলি শিউলী ফুল আর একটা চিরকুট দিয়ে বলল এখুনি ঢাকা যাচছি।ঠিকানা দিলাম।মন চাইলে যোগাযোগ করেন আশায় থাকবো।আমিও আর দেশে থাকার উৎসাহ হাড়িয়ে ফেললাম।
ঢাকা যেয়ে যে ওর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।ঢাকা এসে জামিলের কথা হয়,দেখা হয়।ভালবাসার কথা হয়।ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হয়।

ওকে ঐ পথ ছেড়ে আসতে বুঝাই।ওকে রাজী করাই।কিন্তু হায় এমন এক রাজনীতির আবর্তে আটকা পড়ে যায় যার পরিনতি ছি ল মৃত্যু। জামিল তার বসদের বলেছিল রাজনীতি ছেড়ে দিতে চায়।তারা ওকে শেষবার ছোট একটা কাজ দিয়ে দেশে পাঠায়।আমার সাথে দেখা করে যায় ।হায় কে জানে ঐ আমাদের শেষ দেখা।

মাস চলে যায় ওতো ফেরে না অভিমান করে থাকি।অনেক দিন পর বেলী আপা চিঠি দেয় ।আড়িয়াল খাঁতে জামিলের মৃতদেহ ভেসে উঠে।হায় আমার স্বপনের আড়িয়াল খাঁ।

০৪.১০.২০১৭/ফাস্টনিউজ/এআর/০০.৪৫
অতিথি কলাম :: আরও খবর