Tuesday July 23, 2019
জনদুর্ভোগ
04 June 2018, Monday
ট্রেনের টিকিটের জন্য হাহাকার
ফাস্টনিউজ, ঢাকা:  ঈদের আগে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় চতুর্থ দিনেও লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকিটপ্রতাশীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন তারা। মানুষের সংখ্যা নির্ধারিত টিকিটের তুলনায় প্রায় ২-৩ গুণ বেড়ে যায়, ফলে কমলাপুরে ট্রেনের টিকিটের জন্য যাত্রীদের মাঝে চলছে হাহাকার।

সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল ৮টার দিকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ দেওয়া হচ্ছে ১৩ জুনের টিকিট। এছাড়া মঙ্গলবার ১৪ এবং বুধবার ১৫ জুনের আগাম টিকিট দেওয়া হবে।

ঈদযাত্রায় ট্রেনের আগাম টিকিট পেতে গতকাল বিকেল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করতে থাকেন টিকেট প্রত্যাশীরা। সোমকার সকাল আটটায় টিকিট বিক্রি শুরু হলেও রোববার বিকেল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেক টিকিটপ্রত্যাশী। ভোর হতে না হতেই সেই লাইন দীর্ঘ হতে থাকে।

অগ্রিম টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কাউন্টারের সামনে বসেই অনেকে সেহরি খেতে হয়েছে। টিকিট পাওয়া যাত্রীরা জানান, মধ্যরাতে এসেও যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের অনেকেও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন।

আবদুল হামিদ খান নামে এক ব্যক্তি জানান, ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য রোববার সকাল ৮টায় তিনি কমলাপুর স্টেশনে এসেছেন। ২৪ ঘণ্টা পর কাউন্টার থেকে জানানো হয় কোনো এসি টিকিট নেই। শেষে শোভন চেয়ার টিকিট কাটেন।

বেসরকরি চাকরিজীবী মাহবুব আলম জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কাউন্টারে গিয়ে তিনি জানতে পারেন নীলসাগর ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার কোনো টিকিট নেই। তিনি বলেন, কাউন্টার থেকে যে কথা বলে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার আগে সাতজন টিকিট নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়জন চারটা করে আটটা টিকিট কিনেছে। কিন্তু এর পর আর কেউ এসি টিকিট পায়নি।

সোমবার কমলাপুর থেকে ২৭ হাজার ৪৬১টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এসব টিকিটের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার সংখ্যা জানতে চাইলেও উত্তর দিতে পারেননি কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিটে চাহিদা বেশি। সেগুলো কাউন্টার থেকেই বিক্রি হয়েছে।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে খুলনায় যাবেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সিনথিয়া। সেজন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে রোববার দুপুর দুইটা থেকে টিকেটের জন্য কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষায় ছিলেন। স্টেশনেই ইফতার ও সেহরি খেয়েছেন। সোমবার সাড়ে নয়টার দিকে তিনিও পেয়েছেন তার কাঙ্খিত টিকিট।

তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার বেশিরভাগ টিকিট ভিআইপিদের জন্য রেখে দেয়া হয় বলে জানান রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন জানান, ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিটের চাহিদা বেশি, কিন্তু কোচ কম। কাউন্টারে এসি টিকিট কম দেয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভিআইপিদের জন্য কোটা আছে। এটি তো আর অ্যাভয়েড করা যাবে না। বিচারপতি মহোদয়রা যাবেন, এমপি মহোদয়রা যাবেন। উনাদের জন্য তো এসি রাখতে হয়।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো ত্রুটি নেই। অত্যন্ত শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টিকিট নিতে আসা যাত্রীদের একটা কথা মনে রাখতে হবে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সীমিত টিকিট বিক্রি করছে।

০৪.০৬.২০১৮/ফাস্টনিউজ/এমআর/১৫.৫৫
জনদুর্ভোগ :: আরও খবর