Thursday April 18, 2019
জনপ্রশাসন
24 February 2019, Sunday
দায়িত্ব পালন না করা ঘুষ ও দুর্নীতির মতোই অপরাধ
ফাস্টনিউজ,ঢাকা:দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খান কিংবা দুর্নীতি করেন তারা যেমন অসৎ তেমনি যারা দায়িত্ব পালন করেন না কিংবা করতে পারেন না তারাও অসৎ।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিপূর্ণভাবে ডকুমেন্ট তথা কাগজ নির্ভর। আবার দুদক আইন অনুসারে অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার জন্য আইনি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। তদুপরি কেউ এই নির্দেশ পরিপালন না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ড দেওয়ার বিধানও রয়েছে। তারপরও কেন কমিশনের অনুসন্ধান বা তদন্ত আইন অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না? কেন কিছু কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন না? এর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজে দুর্নীতিমুক্ত না থাকলে এবং চলন-বলন তথা আচরণের উৎকর্ষতা না থাকলে কেউ শ্রদ্ধা করে না। এটাও সকলকে মাথায় রাখতে হবে। সবাই পদোন্নতি পেতে চান কিন্তু দায়িত্ব নিতে চান না। কমিশন ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দিয়েছে। এখন সমন্বিতভাবে কাজ করার সময়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত কাজের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সময়াবদ্ধ কালের মধ্যে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন না করার ব্যর্থতার জন্য কেউ কেউ হাজার হাজার অজুহাত দেখান। আবার এই প্রতিষ্ঠানেরই অনেক মেধাবী সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নির্ধারিত সময়েই মানসম্পন্ন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তাহলে যারা ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী হতে পারে। নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করুন।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যক্তি কখনো অন্য ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে পারে না। নিজের পরিবর্তন নিজেকেই করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘পদ্ধতিগত কারণেই এ দেশে ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যাদের মান-সম্মানের ভয় নেই তথা কোনো আত্মমর্যাদা নেই তাদের পক্ষে ঘুষ খাওয়া সত্যিই সহজ।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারে জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে ২৭টি প্রতিষ্ঠানি টিম গঠন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম ও সময় ব্যয় করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ঘুষ-দুর্নীতির ফাঁক-ফোকড় বন্ধ করা।’

তিনি বলেন, ‘দুদকে অনেক ভালো ভালো কর্মকর্তা রয়েছেন যারা সুনিপুণভাবে নির্মোহ থেকে মামলার তদন্ত করেন। তাদেরকে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষই শ্রদ্ধা করেন । কিন্তু যারা ব্যর্থ হচ্ছেন তাদেরকে নিয়ে মানুষ কী ভাবছে, তা ভেবে দেখতে হবে।’

প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে সংস্থাটির প্রধান বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার কর্মকর্তাকে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষণের এই শিক্ষাগুলো যাতে নিজ নিজ কর্মে প্রতিফলন ঘটে। প্রশিক্ষণ গ্রহণে যারা ব্যর্থ হবেন তাদের কমিশন আইন অনুযায়ী অন্য সংস্থায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে যে পরীক্ষা হবে তার ফলাফল ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হবে। পদোন্নতির বিদ্যমান নীতিমালা পরিবর্তন করে প্রশিক্ষণের ফলাফল এতে অর্ন্তভূক্ত করা হবে ।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।

২৪.০২.২০১৯/ফাস্টনিউজ/এমআর/১৫.১৫
জনপ্রশাসন :: আরও খবর