Thursday July 18, 2019
জাতীয়
02 March 2019, Saturday
স্থাপনা নির্মাণে কৃষিজমি ও জলবায়ুর দিকে নজর দিতে হবে
ফাস্টনিউজ,ঢাকা:যে কোন স্থাপনা নির্মাণের সময় দেশের কৃষিজমি, জলাশয় ও জলবায়ুর দিকে নজর দেওয়ার জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ২ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চার দিনব্যাপী ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে শিল্পায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প গড়ে তোলার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়। জলাধারের যেন ক্ষতি না হয়। নদী ও খালবিল বাঁচাতে হবে। এতে পরিবেশ সুন্দর থাকে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানম্নত্রী বলেন, আমরা কৃষিতে আধুনিকীকরণ করতে চাই, যান্ত্রিকীকরণ করতে চাই। শিক্ষিত লোকজন যাতে কর্মবিমুখ না হয়, তারা যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। এ জন্য গবেষণাও দরকার। কোন কোন ক্ষেত্রে গবেষণা দরকার, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই। গবেষণার মাধ্যমে আমাদের দেশের মাটি মানুষের উপযোগী করে নতুন নতুন উদ্ভাবন করতে হবে। এভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি তা খেলায় রাখতে হবে সেটি মাথায় রেখেই উৎপাদন করতে হবে।

জলাধার রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জলাধার রক্ষা করা দরকার। রাস্তা বা কোনও স্থাপনা নির্মাণের সময় এটি খেয়াল রাখতে হবে। ঢাকা শহরে খাল-পুকুর এখন পাওয়া যায় না। আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। জেল খানার পুকুর থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে। জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে। হাইওয়ে করার সময় দেখতে হবে, যেন পাশে জলাধার থাকে। আমাদের প্রাকৃতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জলবায়ু লক্ষ করে হাসপাতালসহ ভবন নির্মাণ করতে হবে। বৃষ্টি-রোদ এগুলো লক্ষ রেখে স্থাপনা করতে হবে। যেটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি আমাদের দেশের জন্য যথার্থ কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। খাদ্য, পুষ্টি, জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। কোনও কাজ করার আগে থেকে আমাদের পরিকল্পনা থাকে। গত পাঁচ বছরে খাদ্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। একসময় দেশে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে মোবাইলফোন ছিল, প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। আমরা ক্ষমতায় এসে প্রচুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছি। মানুষের হাতে মোবাইল দেওয়া হয়েছে। সবক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। প্রাইভেট সেক্টরকে আমরা উৎসাহিত করি। তাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা প্রথম ক্ষমতায় আসার আগে বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ রাখা হতো না। যে কারণে দেশ পিছিয়ে ছিল। আমরা দেশের উন্নয়নে প্রতি বছর বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখছি। যে কারণে আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। নতুন নতুন গবেষণার ফলে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধান, শাক-সবজি চাষ হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়েও আমরা বাইরে রফতানি করতে পারছি। এ কারণে ভবিষ্যতে আমরা কৃষিজাত শিল্পের দিকে গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ পৃথিবী যতদিন থাকবে খাদ্যেরও ততদিন প্রয়োজন আছে। খাদ্যের চাহিদা কোনো দিন ফুরাবে না।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো। আমাদের এই অগ্রযাত্রা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলক উন্মোচন করেন।

০২.০৩.২০১৯/ফাস্টনিউজ/এমআর/২০.১০
জাতীয় :: আরও খবর