Friday May 24, 2019
জাতীয়
04 March 2019, Monday
শাসক হিসেবে নয়,সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চাই
ফাস্টনিউজ,ঢাকা:দেশের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, পবিত্র সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা তথা অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

রোববার রাজশাহী সেনানিবাসের শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৭ম, ৮ম, ৯ম এবং ১০ম রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য সেনাবাহিনীকে সরকার সব সময় পাশে পেয়েছে। আর সামনে যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সেনা সদস্যদের দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্তপ্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাদারিত্বের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীতে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নারী অফিসার ও ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম নারী সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একজন নারী ডাক্তারকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের নারী কর্মকর্তাকে লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান ও ইউনিট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহিলা পাইলট সংযোজন একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও সেনাবাহিনীর নারী অফিসার প্রথম নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশেই ১৯৭২ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে একটি প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। তার সুদূরপ্রসারী এ প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আজ সেনাবাহিনী দেশ ও দেশের বাইরে এক সম্মানজনক অবস্থায় উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত একমাত্র রেজিমেন্ট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম পদাতিক বাহিনীর গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাশাপাশি পদাতিক বাহিনীর দ্বিতীয় রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ১৯৯৯ সালে তার সরকারই ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট গঠনের ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের ২১-এ এপ্রিল আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের পতাকা উত্তোলন করি। ২০১১ সালে এ রেজিমেন্টকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। বর্তমানে এ রেজিমেন্টে ২টি প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নসহ ৪৩টি ইউনিট রয়েছে। এ রেজিমেন্টের সদস্যরা দেশ ও দেশের বাইরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, কর্মদক্ষতা, কঠোর অনুশীলন এবং কর্তব্য নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আজ আপনারা পেলেন, তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের প্রশিক্ষণ, প্রশাসন, আবাসনসহ একটি আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। বর্তমান ট্রেনিং ও প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধির আরও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের চিকিৎসা সেবা ও আবাসনসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা উন্নত ও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সেনা সদস্যদের রেশন স্কেল বৃদ্ধি করেছে। সেনা সদস্যদের দুস্থ ভাতা ও ক্ষতিপূরণ অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। সেনাবাহিনীর জেসিওর পদকে ২য় শ্রেণী থেকে ১ম শ্রেণী এবং সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করেছে। এছাড়া আরও অনেক কল্যাণমুখী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, নৌ এবং বিমানবাহিনী প্রধান, সাবেক সেনাপ্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

০৪.০৩.২০১৯/ফাস্টনিউজ/এমআর/২১.০৫
জাতীয় :: আরও খবর