Thursday April 18, 2019
জাতীয়
16 March 2019, Saturday
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিরাপত্তা পরীক্ষা করেই বিদেশ পাঠানো হবে:প্রধানমন্ত্রী
ফাস্টনিউজ,ঢাকা:ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে বিশ্বের অন্য কোনও দেশে খেলতে পাঠানোর আগে আয়োজক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে যেখানেই আমাদের ক্রিকেট টিম পাঠাবো সেখানে অন্তত তাদের নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই পাঠাবো। কারণ আমাদের দেশে যারা খেলতে আসে তাদের আমরা সবসময় যথাযথভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকি।’

শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চার লেন ফ্লাইওভার এবং লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি এ ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেঁচে যাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী’ ও ‘জঙ্গিবাদী ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ ধরনের হামলা বন্ধে বিশ্ববাসীকে একযোগে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট খোলোয়াড়দের ওই মসজিদেই নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা। তারা গিয়েছিলও। কিন্তু ওখানে একজন আহত মহিলা তাদের মসজিদের মধ্যে ঢুকতে দেয়নি। তারা কোনোমতে জীবন নিয়ে ফিরে আসে। এজন্য আল্লাহতায়ালার কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করি।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি বিশ্ববাসী এই ধরনের ঘটনার শুধু নিন্দাই করবে না, এই ধরনের সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ঘটনা যেন বন্ধ হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি ঘৃণ্য ঘটনা। এটা সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ঘটনা।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেখানে যেভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নামাজরত অবস্থায় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়ে, এর চেয়ে জঘণ্য কাজ, ঘৃণ্য কাজ হতে পারে না। যারা জঙ্গি, যারা সন্ত্রাসী তাদের কোনও ধর্ম নাই। তাদের কোনও দেশ নাই, জাতিও নাই। তারা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলাদেশকে জঙ্গিমুক্ত করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে আমরা আমাদের দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে রক্ষা করতে পেরেছি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মানুষের অমঙ্গল ছাড়া কোনও মঙ্গল করতে পারে না।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা, এটা সব মানুষের স্বাধীনতা। আমাদের দেশে আমরা সেটা রক্ষা করতে পেরেছি। যে যার যার ধর্ম সে স্বাধীন ভাবে পালন করবে। সেই সুযোগটা আমরা করে দিয়েছি।’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিউ জিল্যান্ডে সেখানে মসজিদের ভেতরে ঢুকে ৪৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে আহত। সেখানে আমাদের তিন জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের প্রতি শোক জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নিউ জিলান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় আল নূর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদে বন্ধুকধারীদের হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সে সময় তৃতীয় টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছিল। ক্রিকেটাররা আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন।

এর আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান শুক্রবার জানান, ভবিষ্যতে নিজেরা যথেষ্ট নিরাপত্তা না পেলে বিদেশ সফরে বাংলাদেশ টিম বিরত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনও বিদেশি দল যখন আসে, তখন তারা যে ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে কথাবার্তা বলে, আমাদের সেটা দিতে হয়। কিন্তু আমরা এমনটা কখনও পাইনি। সেটা নিয়ে আমরা জোরাজুরি করিনি। আসলে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে এরকম কোনও ধারণাই নিউ জিল্যান্ডের নেই। এখন থেকে যে দেশেই বাংলাদেশ যাক না কেন, আমাদের ন্যূনতম চাওয়া অনুযায়ী নিরাপত্তা দিতে হবে। এটা যারা দিতে পারবে, তাদের ওখানেই আমরা খেলতে যাবো। এছাড়া খেলতে যাওয়া সম্ভব না।

সূত্র: বাসস।

১৬.০৩.২০১৯/ফাস্টনিউজ/এমআর/১৯.১৫
জাতীয় :: আরও খবর